রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র ও স্থানীয় দুই গ্যাংয়ের যৌথ পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, জমি ও চলাচলের রাস্তা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পনা করে খাবারের দোকানে বসে কোটি টাকার চুক্তি ও সমন্বয় সভার পর সশস্ত্র এই হামলা চালানো হয়।
ঘটনার নেপথ্যে মিরপুর ও আশপাশের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত দুই বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। একটি বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, যিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় ‘কিলার ইব্রাহিম’ নামে নথিভুক্ত। অন্য বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন পল্লবী থানা ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন (ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে যাকে বহিষ্কার করা হয়েছে)। স্থানীয় পর্যায়ে এই দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ফোর স্টার গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি স্থানীয় খাবারের দোকানে ১৩ জনের একটি বিশেষ দল বৈঠকে বসে। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সেখানে হামলায় অর্থ যোগান ও লোক সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন হয়। ঠিকাদার বিকাশ চন্দ্র শাহ এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মধ্যস্থতায় ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর ভাড়াটে ক্যাডারদের জড়ো করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনের মাঠ এবং মানিকদী এলাকায় প্রায় ২০০ সশস্ত্র ক্যাডারকে জড়ো করা হয়। পরবর্তীতে ৫টি পিকআপ ভ্যান ও পায়ে হেঁটে ক্যাডাররা নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পের দিকে অগ্রসর হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবাসন প্রকল্পের মূল ফটক ও সালমানের স্টুডিও লক্ষ্য করে অন্তত ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেও সন্ত্রাসী বাহিনীটি গুলি ছোড়ে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পরবর্তীতে ডিবি গুলশান বিভাগ মামলার দায়িত্ব নিয়ে ঘটনার পেছনে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে।
নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পের সংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি এবং চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে কোটি টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক নামধারী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এই নৈরাজ্য চালানো হয়েছে বলে ডিবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা বিকাশ চন্দ্র শাহ, কিলার ইব্রাহিমসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
