সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ। একই অভিযোগে আরও ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত তিন নেতা হলেন—রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা বিশাল চক্রবর্তী। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে এবং বিশাল চক্রবর্তীকে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শোকজ পেলেন ৬ নেতা
একই অভিযোগে রাবি শাখা ছাত্রদলের আরও ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম ও ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রদল নেতা সাজু।
নোটিশে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে তাদের জবাব দিতে হবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তদন্ত
এর আগে রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই রাতেই দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পালটাপালটি পোস্ট দেন।
রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেট দপ্তরে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকাল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে আহসান হাবীবও অবস্থান নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়।
এ ঘটনার সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ ও চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে মিছিল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে সেখানে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
