যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং সর্বাত্মক যুদ্ধের মুখে পড়েও কৌশলগতভাবে আগের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ইরান। মার্কিন ক্ষমতাবলয় ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইসলামী বিপ্লবোত্তর ইরান সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছিল।
তবে মার্কিন রণকৌশল বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তাদের প্রধান তিনটি লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করা এবং তেহরানের ক্ষমতার রদবদল ঘটানোর ক্ষেত্রে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে উল্টো ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নৌচলাচল রুদ্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সরাসরি সামরিক সংঘাত ইরানকে সামরিকভাবে দুর্বল করার বদলে কৌশলগতভাবে আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য ও শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হতে সহায়তা করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের কৌশল এখন বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।
