হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধ সাইবার আক্রমণ ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন সিলেটের নারী চিকিৎসক ও অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির সমর্থক এবং ‘জিয়া সাইবার ফোর্স’-এর একাধিক আইডি ও পেজ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে চরম কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১ অক্টোবর, ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে লাইভে এসে বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীদের ট্রলি সংকট, ব্যাগেজ পেতে ৩ ঘণ্টার দীর্ঘ বিলম্ব, জমজমের পানি না পাওয়া, প্রবীণ ও শিশুদের বসার আসনের অভাব এবং বের হওয়ার পথে দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো ৬টি সুনির্দিষ্ট ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
তবে লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ফেসবুকে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন বিএনপিপন্থী একাধিক কর্মী ও সাইবার অ্যাক্টিভিস্ট। তাঁরা ডা. জান্নাতকে ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনাকারী’, ‘জামায়াতের স্লিপিং ফাইটার’ ও ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার দাবি জানান। এমনকি তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তাঁকে দেশত্যাগের হুমকিও দেওয়া হয়।
অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ডা. জান্নাতের ওপর জঙ্গি অর্থায়ন এবং ভুয়া চিকিৎসকের অভিযোগও আনা হয়। জিয়া সাইবার ফোর্সের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিসহ কিছু বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার দেশের বাইরে একটি এনজিওর আড়ালে রাজনৈতিক চক্রান্ত ও অবৈধ অর্থ সংগ্রহে জড়িত।
এদিকে ডা. জান্নাতের ডাক্তারি সনদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ডিগ্রি ও নিবন্ধনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণপত্র তুলে ধরে পাল্টা পোস্ট করেন ফারহানা মিটু নামের এক নেটিজেন। এতে অন্যায্য আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকে সাধারণ যাত্রীর অধিকারের পক্ষে কথা বলায় ওই নারী চিকিৎসকের পাশে দাঁড়ান।
উল্লেখ্য, ৯ লক্ষাধিক অনুসারী থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডা. ওরাকাতুল জান্নাত সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি প্রার্থী আব্দুল হান্নানের মেয়ে। সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাইবার স্পেসে এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে ডা. জান্নাতের সমর্থকরা দাবি করেছেন।
