স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুকে ‘হৃদরোগ’ বলে চালিয়ে দিয়ে ধর্মীয় রীতি মেনে মরদেহ দাফন করিয়েছিলেন স্ত্রী। তবে দাফনের কয়েক দিন পর কাপড়ের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রাখা নিহতের মুঠোফোনে থাকা একটি গোপন চ্যাট ফাঁশ করে দিয়েছে নির্মম হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য। ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে ডেকে এনে স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ দাফনের ঘটনাটি সামনে এসেছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকায়। নিহতের নাম তালিব (৩০)। চার বছর আগে পেশায় বিউটিশিয়ান ইলমা (২৭)-র সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন ইলমা তাঁর স্বজনদের জানান, কাজ থেকে ফিরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বিছানায় ঢলে পড়ে মারা যান তালিব। এতে আকস্মিক হৃদরোগ ভেবে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দাফন করেন।
তবে দাফনের কিছুদিন পর সন্দেহ হলে তালিবের চাচাতো ভাই রইস বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কাপড়ের স্তূপের নিচ থেকে তালিবের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেন। ফোনটিতে ‘আমান’ নামের এক যুবকের সঙ্গে তালিবের চ্যাটিং কথোপকথন পাওয়া যায়, যেখানে স্ত্রী ইলমার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার জন্য আমানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তালিব।
চ্যাটের সূত্র ধরে পরিবারের চাপের মুখে পড়ে একপর্যায়ে ইলমা স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রেমিক আমান ও তাঁর এক বন্ধুকে বাড়িতে ডেকে আনেন ইলমা। পরে তিনজন মিলে তালিবকে বেদম মারধর করেন এবং আমান ওড়না দিয়ে তালিবের গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে ইলমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন প্রেমিক আমান।
কোতোয়ালি এলাকার সার্কেল অফিসার (সিও) সংগ্রাম সিং জানিয়েছেন, বিস্তারিত তদন্তের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার কবর থেকে তালিবের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত স্ত্রী ইলমাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর প্রেমিক আমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
