বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে ‘মবতন্ত্র’ কায়েমের অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করে বলেন, ‘১৭ বছর ধরে ক্ষুধার্ত বিএনপি এখন পারলে যেন পুরো বাংলাদেশকেই গিলে ফেলে।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মব কালচার শেষ করার কথা বললেও বাস্তবে বিএনপির দলীয় ক্যাডাররাই এখন সারাদেশে মবতন্ত্র কায়েম করে চলেছে।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর এবার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে (ভিসি) ঘেরাও ও জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করানো হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এ ঘটনায় জড়িতদের ছবি ও নাম প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্য দিবালোকে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার নেপথ্যে ঠিকাদারি কাজ ও টেন্ডার নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অসন্তোষকে দায়ী করেন ডাকসুর ভিপি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি দলীয় ক্যাডারদের অনুমতি নিয়ে নিতে হবে?’
একইসঙ্গে ঘটনাটিতে শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাজনৈতিক চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিসির পদত্যাগ আদায় করা হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন আচরণকে অসভ্য আখ্যা দিয়ে সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, গত সপ্তাহে রাড্ডা ক্লিনিকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ইন্ধনে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এই দখল, লুটপাট ও হামলাগুলো সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিত এবং এতে পুলিশ ও বিচার বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।
