ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। একই সঙ্গে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী ধর্মীয় পোশাক পরার কারণে তাকে অপমান, হেনস্তা বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতি এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের স্থান। সেখানে কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয় কিংবা পোশাককে কেন্দ্র করে তাকে হেয় করা হলে তা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব, নিকাবসহ ধর্মীয় পোশাক পরিধানকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য, অপমান বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
