দীর্ঘ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা শেষে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে এ চুক্তিপত্রে সই করেন। আন্তর্জাতিক মানের এই চুক্তিতে লেনদেন-সংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত ছিল বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)।
চুক্তির ফলে দীর্ঘদিন পর এনসিটির পরিচালন দায়িত্বে আসছে কোনো আন্তর্জাতিক অপারেটর। ২০০৭ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে পাঁচটি জেটি রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের ১৪টিই এনসিটিতে অবস্থিত এবং বন্দরটির মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড এই টার্মিনাল পরিচালনা করে আসছিল। গত বছরের ৬ জুলাই তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরদিন থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক এর অস্থায়ী পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের কাজ শুরু হলেও শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা জটিলতায় উদ্যোগটি দীর্ঘদিন ঝুলন্ত ছিল, যা সম্প্রতি নতুন আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হলো।
যদিও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই কৌশলগত টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটিসহ স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে আসছে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
সরকার আশাবাদ প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিকমানের এই ব্যবস্থাপনার ফলে কনটেইনার জট কমবে, জাহাজের অবস্থানকাল বা ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ হ্রাস পাবে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের পরিবহন খরচ সাশ্রয় হবে। এটি বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য খাতের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে।
