আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নাগরিক ও মিত্র দেশের রাজনৈতিক বা সামরিক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এবার আদালতটিকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আইসিসির ওপর এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তীব্র হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে তদন্ত ও হুমকি বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রই আইসিসির অস্তিত্ব শেষ করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আনুষ্ঠানিক বার্তা আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে এটিকে বৈশ্বিক আইনের শাসনের ওপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে আইসিসি। মার্কিন সরকারের হুমকি সত্ত্বেও বৈশ্বিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতটির মূল ভিত্তিকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্বজুড়ে থাকা ১২৫টি সদস্যরাষ্ট্রকে একজোট হয়ে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আইসিসি।
এর আগে ২০২৪ সালে গাজায় ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংস্থাটির চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এদিকে আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সংস্থাটি বিলুপ্তির হুমকির তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় জোটটি মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
