রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে ‘প্রহসন ও নাটক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। যাদের ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্রত্বই নেই, তাদের সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ করাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে চরম হাস্যকর সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন রাবি ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো, মোবাইল ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের স্পষ্ট ঘটনা থাকা সত্ত্বেও তদন্ত প্রতিবেদনে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টিকে হালকা করে দেখা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী ও ছাত্রদলের পদধারী নেতাদের বাদ দিয়ে প্রশাসন অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তিনজনের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে, তিনজনকে অধিকতর তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে এবং তিনজনকে সতর্ক করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে—যেমন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা আহসান হাবিব ও কর্মী বিশাল চক্রবর্তী—তাদের কারও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব নেই। প্রশাসন এই অবাস্তব প্রস্তাবনার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুজাহিদ ফয়সাল আরও উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের নির্বাচিত জিএস আরিফুল ইসলামের ওপর হুমকি ও হামলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করলেই কাউকে পেটোয়া বাহিনী দিয়ে মারধর করার অপসংস্কৃতি আর ফিরতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে এ ধরনের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক আচরণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিতর্কিত করারই এজেন্ডা।
প্রহসনের এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ছাত্রশিবিরের সভাপতি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনতিবিলম্বে অপরাধীদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সনদ বাতিল ও ফৌজদারি মামলা দায়ের না করলে শিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী প্যানেল এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা শীঘ্রই কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
