কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত ছাত্রীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রেসকোর্সের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে হত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত সে। নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।
এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল তাজমিন। ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশা ভাড়া ঠিক হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।
পুলিশের দাবি, এরপর সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছে জায়গাটি চিনতে না পেরে ভয় পায় তাজমিন। সে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে উপুড় করে ফেলে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের দাবি।
জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইফোন লুকিয়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। এরপর ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাঁচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। পরে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় করে বাখরাবাদ এলাকায় যান।
সেখানে একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি। পরদিন শুক্রবার সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
ধর্ষণ হত্যার আগে নাকি পরে করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় একজনই জড়িত। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’







