ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার ও এই সরকার উভয়কেই বিদায় নিতে হবে এবং তারপরই দেশটিতে প্রকৃত গণতন্ত্র মেরামতের কাজ শুরু হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এমপিদের উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল গান্ধী এই মন্তব্য করেন। এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট কেবল একজন নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর চেয়ে অনেক বড় ও গভীর এবং এর মূল সমাধান লুকিয়ে আছে বর্তমান সরকারের পতনের মধ্যে।
বিরোধী দলগুলো যদি গত কয়েক দিনের মতো ঐক্যবদ্ধ চাপ ধরে রাখতে পারে, তবে এই সরকারের বিদায় নিশ্চিত বলে দাবি করেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, গত তিন-চার দিনে বিরোধীরা যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতে সরকারের ভিত কেঁপে গেছে এবং শাসক মহল এখন ভীতসন্ত্রস্ত। এটি এমন একটি বিষয় যার জন্য লড়াই করা যায় ও জীবন দেওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশির ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানানোর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে যে প্রাতিষ্ঠানিক ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং তাদের সমস্ত নির্দেশ সম্পূর্ণ আইনসম্মত।
অন্যদিকে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কড়া নিরাপত্তা ও দিল্লিজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল অভিযোগ করে বলেন, ট্রেন ও ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, গণগ্রেপ্তার এবং সিআরপিএফ মোতায়েন করার মাধ্যমে মোদি-শাহ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি আরও বলেন, একজন একনায়কের বিরুদ্ধে চলা সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহকে অত্যন্ত নির্মম ও দমনমূলক কায়দায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।







