যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রীয় নিয়োগ পরীক্ষায় এ ধরনের ঘটনা মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির পর পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়া চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য চরম হতাশাজনক। এ ধরনের অনিয়ম সৎ ও মেধাবী প্রার্থীদের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা নষ্ট করে।
তাদের মতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির মতো ঘটনা তরুণদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে প্রার্থী বাদ দেওয়া, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ আটকে রাখা, ভাইভার নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর বিতর্কিত সুপারিশ এবং সর্বশেষ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের যে ধারা তৈরি হয়েছিল, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে পুরোনো ব্যবস্থাকে বহাল রাখার কারণে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
নেতারা বলেন, নতুন বাংলাদেশে নিয়োগব্যবস্থায় অতীতের অনিয়ম ও দলীয়করণের ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অসাধু প্রভাব নয়; যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাকেই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।
ছাত্রশিবিরের চার দফা দাবি
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করা এবং নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে চার দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।
১. দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা: প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ: প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার: পুরোনো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও বিতরণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।
