ভারতের রাজধানী দিল্লির পর এবার দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়েও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ ও সংহতি কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বাইয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা ও ধরপাকড় জোরালো করা হয়েছে।
মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে পুলিশ। বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান না হওয়ায় এবং পূর্বানুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে পুলিশ ওই চত্বরটি সিল করে দেয় এবং সেখানে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।
পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তথা ‘হুম ভারত কে লোগ’-এর সভাপতি তুষার গান্ধী ময়দানে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাঁকে আটক করে। ন্যাশনাল কলেজ ইন্টারসেকশন থেকে তাঁকে প্রথমে সান্তাক্রুজ এবং পরে ডিএন নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরেসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে তাঁর দ্রুত মুক্তি দাবি করেন।
তুষার গান্ধী ছাড়াও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট কর্মী ফিরোজ মিতাবোরওয়ালাসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটক করেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরের মূল আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের ওপর পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়।
এদিকে একই দিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও আন্দোলন দমনে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। রাজধানীজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা, মেট্রো স্টেশন এবং জনবহুল বাজারে কড়া বিধিনিষেধ বহাল রেখে পুরো শহরকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে।







