ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং দেশে গোপন নাশকতার ছক কষার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। দীর্ঘ নজরদারির পর একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, পতিত স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পক্ষে তহবিল সংগ্রহ ও গোপন হামলার ছক কষার সুনির্দিষ্ট তথ্য অভিযানে উঠে এসেছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ সম্পর্কে জুলকারনাইন সায়ের উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। আজিজের হস্তক্ষেপে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ডিজিএফআই ও আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের মতো স্পর্শকাতর সংস্থায় কাজ করেন। এমনকি আজিজের হয়ে বিজিবিতে নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ সংগ্রহের চক্র পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর ও তাঁর পিতার বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের আগস্টের পর সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ দেশত্যাগ করলেও দেবাশীষ দেশেই থেকে যান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কিছু সেনাসদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। সম্প্রতি বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ‘পাওয়ার জেল’ দেশে আমদানির ঘটনায় দেবাশীষের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সায়ের জানান, ভারতীয় হ্যান্ডলার ও দেবাশীষের সঙ্গে মিলে তিনি দেশব্যাপী নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। ঢাকায় নিযুক্ত ‘র’-এর সাবেক স্টেশন চিফ রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি একজন মেজর জেনারেলসহ অন্তত আটজন সেনা কর্মকর্তাকে হানিট্র্যাপে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই কর্মকাণ্ডের জেরে ২০১৯ সালে তাঁকে সব সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে ভারতীয় প্রভাবে মাত্র চার মাসের মাথায় সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে রাওয়া ক্লাবসহ বিভিন্ন সেনানিবাসে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল, যার মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেন। সর্বশেষ তিনি বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের মিনিস্টার (কনস্যুলার ও শিক্ষা) সুভাষ রামকৃষ্ণন পিল্লাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
