ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবিভাগ দাবি করেছে যে, অনুমোদিত নৌপথ অমান্য করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের পেতে রাখা নৌমাইনের আঘাতে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি কনটেইনারবাহী একটি বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে এই ঘটনাটি ঘটে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক একটি রুট ব্যবহার করছিল। নৌমাইনের সঙ্গে প্রচণ্ড সংঘর্ষের পরপরই জাহাজটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়। এর আগে গত শনিবারও একই প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে যাতায়াতের সময় একটি বৃহৎ তেলবাহী ট্যাঙ্কার নৌমাইনের আঘাতে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালিটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনী। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্যমতে, প্রতিদিন বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই সংকীর্ণ কৌশলগত রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজে নৌমাইন হামলা ও জাহাজ ডুবির ঘটনার পর থেকে বিশ্ববাজারে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের বিমা ও পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা বিশেষ করে এশীয় বাজারগুলোতে মারাত্মক সরবরাহ সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করবে।
