শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। বেঁধে দেওয়া এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে শাহবাগে বিশাল জনসমুদ্র ঘটিয়ে দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাগ্য নির্ধারণের চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকায় ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের এই ডেডলাইন ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ১৮ ডিসেম্বরের পর তারা আর কোনো বিচার ভিক্ষা করতে রাজপথে নামবেন না; বরং সেই দিন জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে নাকি শহীদ হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্তকারীদের পক্ষে অবস্থান নেবে।
সমাবেশে সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কড়া তোপ দেগে জাবের অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও তথাকথিত সম্পর্কের দোহাই দিয়ে কতিপয় গোষ্ঠী হাদি হত্যার বিচার থমকে দেওয়ার পাঁতারা করছে, যারা প্রকৃতপক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য মদদদাতা। তিনি আরও বলেন, ঘাতকদের বিচারে সোপর্দ করা সরকারের দায়িত্ব। একই সাথে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ হাদিকে নিয়ে কোনো কটূক্তি আর বরদাশত করা হবে না।
এর আগে চারতলা মোড় থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কারমাইকেল কলেজ ও লালবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয়সহ একাধিক তরুণ নেতা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ থেকে ঘোষিত ইনকিলাব মঞ্চের ৩ দফা দাবিগুলো হলো:
১. শহীদ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা,
২. গণভোটের গণরায় মেনে ‘জুলাই সনদ’ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা, এবং
৩. ঐতিহাসিক জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বরের তাণ্ডব ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করা।
