স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে মুঠোফোনে কথাগুলো বলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)। কে জানত, অবুঝ দুই সন্তান ও স্ত্রীর সঙ্গে সেটিই ছিল তাঁর শেষ কথা। রাতের খাবার খাইয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর ফেরার পথ চেয়ে থাকা আনন্দিতার সেই প্রতীক্ষা শেষ হয়েছে কেবলই এক বিভীষিকাময় লাশ হয়ে ফেরা খবরে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় চায়ের দোকানের সামনে প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতকারীরা। নিহত লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি জনপ্রিয় পেজ থেকে স্থানীয় সিন্ডিকেট, অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী লেখালেখি ও বস্তুনিষ্ঠ ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।
চক্ষুুষ্মান প্রত্যক্ষদর্শী ও চায়ের দোকানদার রবিন রাংসা জানান, লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে বের হওয়ার পর নিজের ফেলে যাওয়া মোবাইলটি নিতে পুনরায় দোকানে আসেন। ঠিক সে সময় ৩০-৩৫ বছর বয়সী দুই যুবক এসে সিগারেট চাওয়ার ছলে লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বামীর মরদেহের পাশে কোলজুড়ে থাকা চার বছরের মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছরের ছেলে আইয়ান সাফয়ানকে নিয়ে অঝোরে কেঁদে চলছেন আনন্দিতা সাংমা। আকুল কান্নায় তিনি বলেন, “বাচ্চাদের ভাত খাওয়ানোর সময় গুলির শব্দ পেয়ে ভেবেছিলাম ফটকা ফুটছে, পরক্ষণেই শুনি ওকে মেরে ফেলেছে। যারা আমার নিষ্পাপ সন্তানদের পিতৃহারা করল, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।”
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান সত্য প্রকাশে আপসহীন থাকার কারণে আগেও চরম রোেষর শিকার হয়েছিলেন। গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে গুরূতর জখম করেছিল। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘাতকদের শনাক্তে পুরো জেলাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
