ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার কনট প্লেসের কাছে নির্ধারিত ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তাকে আটক করা হয়। এতে সংগঠনটির পরিচিত তিন শীর্ষ নেতার কেউই বর্তমানে আন্দোলনের মাঠে নেই। তবে নেতৃত্বের সংকটের মধ্যেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিজেপি।
শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচিটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই এলাকাটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ। পার্কের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামানও।
যানজট ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পুলিশ অভিজিৎকে কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার নোটিশ দেয়। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারির কথাও উল্লেখ করা হয়।
বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঝান্ডেওয়ালের আবাসস্থল থেকে বের হওয়ার পরপরই অভিজিৎকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় নিজের আটকের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই অভিযানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ আরও কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
কী থাকছে ‘প্ল্যান বি’তে?
অভিজিৎকে কর্মসূচিস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হলে বিকল্প পরিকল্পনা সামনে আনা হবে বলে জানিয়েছিলেন সিজেপির মিডিয়া সমন্বয়ক বিজয় এম। অভিজিৎ আটক হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই তিনি এ কথা জানান। তবে বিকল্প পরিকল্পনায় ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি সংগঠনটি।
এর আগে গত ১০ অক্টোবরের আন্দোলনের সময় অভিজিৎসহ অন্য নেতাদের আটক করা হলে পূর্বে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অজিনক্যা শিন্ডেকে সাময়িকভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবারও শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলন পরিচালনায় বিকল্প নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে সিজেপি।
এর আগে আটক হওয়া সংগঠনটির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে তিহার জেলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
শীর্ষ নেতাদের একাধিক সদস্য আটক থাকায় কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনটির ঘোষিত ‘প্ল্যান বি’ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
