২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ বাজেট প্রস্তাব উন্মোচন করে জানান, জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় খাতে বরাদ্দ এক লাফে ২২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
আঙ্কারায় আয়োজিত বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতে ৪ হাজার ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা) এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতে ২ হাজার ৫২০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ও সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তা মিলিয়ে তুরস্কের মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৬ হাজার ৯৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকার সমান।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই ব্যাপক আধুনিকীকরণ নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইলমাজ বলেন, বিগত ২৫ বছরে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্পে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটেছে। বিদেশি অস্ত্রের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সামরিক শিল্পকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এই বাজেট বড় ধরনের অগ্রগতি আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা খাতের পাশাপাশি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতেও বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে আঙ্কারা। মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ১৩.৭ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়েছে শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা খাতে। এ ছাড়া রেলপথ, সেচ, জ্বালানি অনুসন্ধান ও খনি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত বিনিয়োগে ৫ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার এবং সাম্প্রতিক ভূকম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পুনর্গঠনে ১ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। আইনানুযায়ী বাজেট প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছে এবং শিগগিরই সংসদীয় কমিটিতে এর ওপর বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।







