অস্ত্র প্রদর্শনী ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত একাধিক আইন ও সরকারি নীতিমালা ভঙ্গের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে। সরকারি নীতির সুস্পষ্ট তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ক্ষমতার বলয় প্রদর্শনের এমন ঘটনা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’-এর ২৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে। নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, সর্বসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা ভীতি সৃষ্টি হতে পারে—এমনভাবে জনসম্মুখে কোনোভাবেই অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করা যাবে না। প্রতিমন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড এই সরকারি নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নীতিমালাই নয়, বরং দেশের মূল অপরাধ আইনেও এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘অস্ত্র আইন ১৮৭৮’-এর ২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে সর্ব্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ‘দণ্ডবিধি ১৮৬০’-এর ৫০৬ ধারা অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আতঙ্ক সৃষ্টির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদের এমন অপব্যবহার নিয়ে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল পদে থেকে দেশের প্রচলিত আইনকে এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর পর তিনি পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন এখন তীব্র হচ্ছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার তার প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নাকি দলীয় পরিচয়ে ছাড় দেবে, তা দেখার অপেক্ষায় সচেতন দেশবাসী।
