তুরস্কের জ্বালানি ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে দেশটির প্রথম ভাসমান প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন প্ল্যাটফর্ম ‘ওসমান গাজী’ কৃষ্ণ সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। শনিবার দেশটির ফিলিয়োস বন্দর থেকে প্ল্যাটফর্মটি তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর মাধ্যমে তুরস্কের নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, ওসমান গাজীর মাধ্যমে তুরস্ক তার জ্বালানি খাতে সম্পূর্ণ নতুন যুগে প্রবেশ করছে। এটি মূলত একটি ভাসমান শিল্প স্থাপনা, যা তুরস্কের সামুদ্রিক সীমানা বা ‘ব্লু হোমল্যান্ড’ এবং ‘সেঞ্চুরি অফ তুরস্ক’ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এরদোয়ান এই বিশাল স্থাপনাটিকে জ্বালানি খাতের একটি ‘ভাসমান দুর্গ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৯৮.৫ মিটার দৈর্ঘ্য, ৫৬ মিটার প্রস্থ এবং ২৯.৫ মিটার গভীরতার এই বিশালাকার প্ল্যাটফর্মে ১৪০ জন কর্মী কাজ করবেন। এটি টানা ২০ বছর কৃষ্ণ সাগরে দায়িত্ব পালন করবে। ২১টি ভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিটে সজ্জিত এই প্ল্যাটফর্মটি সাকরিয়া গ্যাস ফিল্ডের কূপ থেকে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে সাবসি-পাইপলাইনের মাধ্যমে ফিলিয়োসের ডাঙায় পৌঁছে দেবে।
এই প্ল্যাটফর্মটি পুরোদমে চালু হলে কৃষ্ণ সাগরে তুরস্কের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছাবে, যা প্রায় ৮ মিলিয়ন পরিবারের দৈনিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম। রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে তুরস্কের প্রতি তিনটি পরিবারের একটি নিজস্ব উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওসমান গাজী প্ল্যাটফর্মের এই উৎপাদন চালুর ফলে তুরস্কের জ্বালানি ক্ষেত্রে বৈদেশি নির্ভরতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। শুধু তাই নয়, নিজস্ব সম্পদ উত্তোলনের এই নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থের বড় অবদান রাখবে।
