ইয়েমেনে সৌদি আরব ও দেশটির সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় সরাসরি যুক্ত রয়েছে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) সৌদি আরব ও হুথিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই সামরিক আঁতাতের খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সরাসরি উপস্থিত থেকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সুড়ঙ্গ নির্মাণ ও রসদ সরবরাহ সংক্রান্ত ইউনিটগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। এমনকি সম্মুখযুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত থেকে হামলা পরিচালনা, কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং হুথি যোদ্ধাদের আধুনিক ও উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইরানি কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
ইয়েমেনে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ইরান দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথ ও প্রচলিত পালতোলা নৌকা ব্যবহার করে আসলেও, সম্প্রতি তারা আকাশপথ ও সাবমেরিন ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে। গত জুলাইয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ইরানের ‘মাহান এয়ার’-এর দুটি কার্গো বিমান সরাসরি ইয়েমেনের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ওই ফ্লাইটে সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি আইআরজিসির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা ইয়েমেনে প্রবেশ করেন।
এই গোপন চালানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। এই হামলার পর দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা সংঘাতমুক্ত যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায় এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করে। তবে হুথি নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের অর্জিত সামরিক সাফল্য একক এবং ইরানের সহায়তার অভিযোগকে তারা সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, গত সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগরের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ‘মোখা’ দখল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলে হুথিদের প্রভাব সুসংহত করার পেছনেও ছিল আইআরজিসির মাস্টারমাইন্ড। এবারই প্রথম হুথিরা স্থলপথে পদাতিক বাহিনীর আক্রমণের পাশাপাশি ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত সর্বাধুনিক এফপিভি (FPV) আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা সরাসরি ভিডিও ফুটেজ দেখে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম।
ইয়েমেনের এই বিশাল সামরিক রদবদল ও আইআরজিসির সরাসরি রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার ফলে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সামরিক সমীকরণ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
