সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ঢাকা সীমান্তকে কিছুই জানায়নি রিয়াদ। বন্ধুপ্রতিম একটি দেশের এমন আকস্মিক ও গোপনীয় পদক্ষেপে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সৌদি সরকারের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। গত সপ্তাহে মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে তথাকথিত ‘অশালীন কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ এনে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে শিরচ্ছেদ বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাঁরা ঠিক কী ধরনের অপরাধে যুক্ত ছিলেন কিংবা বিচার চলাকালে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবীর আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখায় তিনি গভীরভাবে হতাশ। কী প্রক্রিয়ায় তাঁদের দণ্ড দেওয়া হলো এবং কেন বাংলাদেশকে পূর্বাহ্নে তথ্য প্রদান করা হলো না—সে বিষয়ে ইতোমধ্যে রিয়াদের কাছে লিখিত ও কূটনৈকিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, “আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে তথ্যের এমন গুরুতর ঘাটতি নিয়ে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে। দুই দেশের নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থায় কেন এমন বিঘ্ন ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে আলোচনা চলছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পূর্বে সৌদি সরকারের তরফ থেকে বাংলাদেশকে আটক বন্দীদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এই দুই নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা তখন বাংলাদেশকে ঘুণাক্ষরেও জানানো হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক বিচারিক মানদণ্ড উপেক্ষা করে সৌদি আরবে বিদেশি নাগরিকদের ওপর এমন চরম দণ্ড চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালেই এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যার সিংহভাগই বিভিন্ন দেশের অভিবাসী নাগরিক।
