নেত্রকোণার কলমাকান্দার সন্তান, সাবেক সেনা সদস্য ও বেসরকারি আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলা’র জেলা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে চিহ্নিত অপরাধচক্র। অন্যায়, দুর্নীতি ও সীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পাশে তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি চায়ের দোকান থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে আলিফ ফকিরের ওপর চড়াও হয় আততায়ী চোর-সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাকে লক্ষ্য করে পরপর ছয়টি গুলি চালানো হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বুকে ও শরীরে লাগা ছয়টি গুলির মধ্যে পাঁচটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠে আটকে থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কেন টার্গেট হলেন অকুতোভয় এই সত্যের সৈনিক?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য আলিফ ফকির পরবর্তীকালে সাংবাদিকতায় এসে অপরাধীদের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন। নিজের পরিচালিত ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেলের’ অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য তিনি কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশ ধরে সরাসরি সীমান্ত এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। চোরাচালান, সীমান্ত অপরাধ, মাদক ও স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নানা অনিয়মের মুখোশ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করতেন।
তার এই অকুতোভয় অবস্থানই সীমান্তকেন্দ্রিক কুখ্যাত অপরাধচক্র ও সন্ত্রাসীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগেই নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি পুলিশকে অবহিত করেছিলেন এবং সীমান্ত অপরাধীদের হুমকি-ধামকির মুখে পড়েছিলেন। তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেই অবশেষে আততায়ীরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার সুযোগ পায়।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব নামে এক দুর্ধর্ষ আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও সন্ত্রাসীদের কঠোরতম বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানিয়েছেন।







