বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা, নৈরাজ্য ও দাঙ্গা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ হাজারটি বিশেষায়িত ‘রায়ট কার’ কেনার একটি বড় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের বিদ্যমান যানবাহন সংকট দূর করা এবং মাঠপর্যায়ের কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে এই গাড়িগুলো পর্যায়ক্রমে পুলিশ বহরে যুক্ত করা হবে।
নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি আধুনিক রায়ট কারের সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা। তবে কেবল রায়ট কারই নয়, পুলিশের সার্বিক যানবাহন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং নতুন পরিবহন কেনাকাটার জন্য সর্বমোট সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ লাইন্সে বর্তমানে ব্যবহৃত যানবাহনের অর্ধেকেরও বেশি বেশ পুরোনো, জরাজীর্ণ ও মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়ায় জনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। নতুন কেনা এই ১ হাজার রায়ট কার পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা পুলিশ লাইনস এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে মোতায়েন করা হবে। বিশেষ করে সহিংসতাপ্রবণ ও জনবহুল এলাকাগুলোতে এই শক্তিশালী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহৃত হবে।
পুলিশের এই সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনার অধীনে রায়ট কারের পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও অপারেশনের জন্য আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স, দ্রুত চলাচলের জন্য জিপ ও পিকআপ এবং বুলেটরোধী আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (APC) ও ওয়াটার ক্যাননও যুক্ত করা হবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এই অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন দাঙ্গা দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
