বিশেষায়িত ডিগ্রি না থাকা এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিললেও রাজধানীর মাতুয়াইলে শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইসিএমএইচ) শিশু বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্য অধ্যাপক ডা. আ.ন.ম. নুরুল হক ভূঁইয়াকে। দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক সংস্কারের চরম প্রতিশ্রুতি এবং বিএনপি সমর্থিত সরকারের শাসনামলেও এমন দলবাজ চিকিৎসকের বিতর্কিত পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে সর্বস্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি বর্তমান বিএনপি সরকার নিজেদের অনুসারী কিংবা যোগ্য লোক না পেয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদের দোসর এই স্বাচিপ নেতাকেই বিভাগের কান্ডারী বানালো? নাকি প্রশাসনিক এই অনিয়ম ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের নেপথ্যে কাজ করেছে বড় কোনো আড়ালে থাকা অর্থ বা সুবিধার লেনদেন?
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইসিএমএইচের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক বিতর্কিত আদেশে স্বাচিপ সদস্য নুরুল হক ভূঁইয়াকে শিশু বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডা. নুরুল হক ভূঁইয়া মূলত নবজাতক (নিওনেটাল) বিভাগের অধ্যাপক। শিশু চিকিৎসায় তাঁর কোনো বিশেষায়িত উচ্চতর ডিগ্রি নেই। তাছাড়া শিশু বিভাগেই তাঁর চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ বিসিএস কর্মকর্তা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ডিঙিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যমতে, ২১তম বিসিএসের কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক ভূঁইয়া আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের নারায়ণগঞ্জ জেলার তালিকাভুক্ত সদস্য (সদস্য নম্বর: GM4601M)। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং পরবর্তীতে তদবিরের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে এখন গুঞ্জন তুঙ্গে—যেখানে বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা, সেখানে উল্টো কোন অদৃশ্য হাত বা ‘বড় অঙ্কের লেনদেনের’ বিনিময়ে তাঁকে এমন সংবেদনশীল পদের দায়িত্ব সোপর্দ করা হলো?
ডিগ্রি না থাকা, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং স্বাচিপ সদস্যকে পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে ডা. নুরুল হক ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি আইসিএমএইচের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এনামুল হককে ফোন ও মেসেজ পাঠানো হলেও তিনিও কোনো সদুত্তোর দেননি।
চিকিৎসক মহলের মতে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত চিকিৎসকদের শীর্ষ পদে বসানোর এই অসুস্থ প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে ইনস্টিটিউটের স্বাস্থ্যসেবা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।







