চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইউপি পরিষদ ভবনের সরকারি পুকুরে ওয়াটার পাম্প বসিয়ে জোরপূর্বক মাছ লুটের চেষ্টা চালিয়েছেন এক স্থানীয় বিএনপি নেতা। তবে সচেতন নাগরিকদের খবর ও উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এই বেআইনি সিন্ডিকেটের চক্রান্ত পুরোপুরি ভণ্ডুল হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন সরকারি পুকুরে এই অপচেষ্টার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের খবর পেয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন কালবিলম্ব না করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজীদুর রহমান তন্ময়কে বিপুল শক্তি নিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠান এবং অভিযান চালিয়ে মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিমের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার অবৈধভাবে সরকারি পুকুরে একাধিক ওয়াটার পাম্প বসিয়ে পানি সেচা শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল পুরো পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করে কেটে পড়া। কিন্তু স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান ও প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও মো. রুহুল আমীন জানান, সরকারি সম্পত্তি ও সম্পদ কোনো ব্যক্তির দখলের সুযোগ নেই। পুকুরের মাছগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে এবং অর্জিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
এদিকে সরকারি পুকুর দখলের অভিযোগ উঠলেও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিম তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি নাকি অর্থ পরিশোধ করে মাছগুলো কিনেছেন; ফলে অবৈধভাবে মাছ লুটের প্রশ্নই আসে না। তবে সরকারি খাস পুকুরে কীভাবে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি নিজস্ব পাম্প বসিয়ে মাছ লুট করতে পারেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকেরা। তারা এই জবরদখল ও অপচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও কঠোর আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
