রাজধানী ঢাকা থেকে গাজীপুরের শিববাড়ি পর্যন্ত বিশেষ বাস চলাচলের জন্য গৃহীত দেশের প্রথম ‘বাস র্যাপিড ট্রানজিট’ (বিআরটি) প্রকল্প অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। পরিকল্পনাগত ত্রুটি, সীমাহীন দুর্নীতি ও দীর্ঘ ১৪ বছরের দীর্ঘসূত্রতার পর সরকারের এ সিদ্ধান্তে ধূলিসাৎ হলো প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার জনঅর্থ। পুরো মেগা প্রজেক্টটিকে এখন সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০১২ সালে গৃহীত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল মাত্র ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা ২০১৬ সালে শেষ করে ২০১৭ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আধুনিক বাস চালুর কথা ছিল। তবে তিনবার প্রকল্প সংশোধন, বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি ও খরচের পাহাড় বাড়িয়ে তা দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়। শেষ পর্যন্ত বাস নামানো তো দূরের কথা, মূল অবকাঠামো তৈরিতেই উবে গেছে ২,৮১১ কোটি টাকা।
ঋণ করা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও শেষ রক্ষা না হওয়ায় জনগণের টাকার এমন করুণ অপচয়কে ‘মহা দুর্নীতি’ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিষেশজ্ঞরা। শুধু তাই নয়, সড়ক উন্মুক্ত করতে গিয়ে এখন নির্মিত আইল্যান্ড, বিশেষ র্যাম্প ও স্টেশনগুলো ভাঙতে গুনতে হবে আরও কয়েক শত কোটি টাকা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে আবারও ৩-৪ হাজার কোটি টাকা ঢেলে বাস কিনে চালানো ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ, যা ফ্লপ প্রকল্পে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা ছিল শতভাগ। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় সাধারণ মানুষকে ভয়াবহ যানজট ও ধুলাবালির যে নরকযন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে, তার দায় এখন কার ওপর বর্তাবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
