বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে একবার বহিষ্কৃত হওয়ার পর পুনর্বহাল হয়ে আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে পুনরায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের যৌথ সিদ্ধান্তে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পরও যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পুনরায় সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তাঁদের কোনো ধরনের অপরাধের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার রাতে নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় মোজাম্মেল হক সোহেলের প্রতিবেশী ও অর্চনা রানী দাস নামের এক অসহায় বিধবা নারী এমপির পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে তাঁকে মারধরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠলে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জুলাই নিজ বাবা-মাকে নির্মমভাবে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠলে মোজাম্মেল হক সোহেলকে প্রথমবারের মতো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে মাত্র ২৬ দিন পর গত ৩০ জুলাই তাঁর সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সেই ক্ষমার সুযোগ পেয়েও সংশোধন না হয়ে উল্টো আবারও প্রকাশ্য সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় শেষ রক্ষা হলো না এই নেতার।
