চট্টগ্রামে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রটোকল ও সঞ্চালনা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে করানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন কি না।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে এই মন্তব্য করেন ডাকসু ভিপি। তিনি লেখেন, “চট্টগ্রামে পূজা উদযাপনের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা তারেক রহমানের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে, তারেক রহমানকে প্রটোকল দেয় ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের নেতারা। এখন কেউ যদি বলে, আওয়ামী পুনর্বাসন লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই, তাহলে কি সেটা ভুল হবে?”
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি বলেছেন—‘গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।’ এর মধ্য দিয়ে এটিই স্পষ্ট হয়েছে যে, সেই দুই দল হলো মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। আর এই গোপন সমঝোতার মূল ভিত্তি হলো অতীতের মতো দেশটাকে ভাগাভাগি করে লুটেপুটে খাওয়ার সেই পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা।
এই সমঝোতার অকাট্য ‘প্রমাণ’ তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, সহস্র শহীদের রক্তে রঞ্জিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কী করেছে? বিএনপি কি ৭০ শতাংশ মানুষের রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেছে? ক্ষমতায় আসার পর জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে কেন? বিদেশ থেকে কোনো গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই কেন?
সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা দেখেছি বিএনপির আমলে খুনি জিয়াউল আহসান দাঁত বের করে হাসতে হাসতে আদালতে যায়। নারায়ণগঞ্জে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি গিয়ে দেখে, আওয়ামী লীগ-বিএনপির গোপন সমঝোতার বৈঠক চলছে। ময়লার ভাগাড় থেকে শুরু করে বড় বড় মেগাপ্রজেক্টের ব্যবসা আওয়ামী লীগের হাতবদল হয়ে এখন বিএনপির দখলে যাচ্ছে। জেলাগুলোতে বিএনপিতে গণহারে পদায়ন করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। এমনকি রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজের আসনেই এখন আওয়ামী লীগের বড় বড় শোডাউন হচ্ছে।”
