এ দুনিয়ায় নিজের জন্য কোনো বিশ্রামের অবকাশ নেই উল্লেখ করে পরকালের চিরস্থায়ী ঠিকানায় আল্লাহর দরবারে একটু শান্তিময় বিশ্রামের করুণা প্রার্থনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি ‘পাবলিক নিউজ বিডি’-তে প্রকাশিত এক আবেগঘন বক্তব্যে নেতাকর্মী ও অনুসারীদের উদ্দেশ্যে নিজের এই গভীর ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যকালে সম্প্রতি নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও মুখের অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “আজকে আপনারা সকালে আমার চেহারা দেখতে পাচ্ছেন। আপনাদেরই একজন ভাই, একজন ডাক্তার সাহেব আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন—আপনার কি সোরিয়াসিস, নাকি অ্যালার্জি? মুখে এমন দেখা দিয়েছে কেন? আমি বললাম, কোনোটাই না। মুখের এই অবস্থা হয়েছে কারণ, গত পরশুদিন আমার একটি লেজার সার্জারি হয়েছে।”
চিকিৎসকের দেওয়া বিশ্রামের নির্দেশনার বিষয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “আমার প্রিয় চিকিৎসক আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ‘আপনি বাসায় অন্তত এক সপ্তাহ বিশ্রাম নেবেন।’ আমি শুনে হাসলাম। তিনি বললেন, ‘হাসলেন কেন?’ আমি তাকে বললাম, ভাই, আমার তো বিশ্রাম নেওয়ার কোনো সুযোগ বা সময় নেই। আমি মনেপ্রাণে তাই বিশ্বাস করি।”
দলীয় সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অনেকে আমাকে খুব দরদ দিয়ে বলেন—একটু শরীরের দিকে খেয়াল রাখবেন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেবেন। আমি তাঁদের কথা শুনে নীরবে আমার আল্লাহকে বলি, আল্লাহ! আমার যখন এ দুনিয়া ছাড়ার সময় আসবে, এরপরের যে আসল ঠিকানা, সেই ঠিকানায় আমাকে একটু আরামদায়ক বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দিয়েন। কারণ, আমি এ দুনিয়ায় তো বিশ্রাম নিতে আসিনি।”
মৃত্যুচিন্তা ও দ্বীনের পথে অবিচল থাকার অদম্য আকুতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জানি না, কোন অবস্থায়, কোথায় আমার মৃত্যু হবে। আদৌ কপালে কোনো জানাজা জুটবে কি না, কিংবা কোনো কবরের চিহ্ন বা সন্ধান থাকবে কি না—তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আফসোস নেই। দ্বীনের পথে চলতে চলতে যদি কাকপক্ষী বা অন্য কোনো প্রাণী আমার গোশত টুকরো টুকরো করে খেয়েও ফেলে, তাতেও কোনো আক্ষেপ থাকবে না। আমার একমাত্র চাওয়া—এই চলাটা যেন শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহর পথেই হয় এবং শুধুই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য হয়। তাহলে আল্লাহ যে অবস্থায় আমাদের কবুল করবেন, সেটাই পরম সৌভাগ্য (আলহামদুলিল্লাহ)।”







