রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর (AJR) কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ে ফিল্মি কায়দায় এক ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হেলমেট ও মাস্ক পরা ৪৫ থেকে ৫০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী টানা ২৩টি মোটরসাইকেলে করে এসে এই তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীরা প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা ও সার্ভার রুম ভেঙে ফুটেজ সংরক্ষণের ডিভিআরটি (DVR) খুলে নিয়ে যায়, যাতে তাদের পরিচয় ও হামলার কোনো প্রমাণ অবশিষ্ট না থাকে।
ঘটনাস্থলের প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২০ অক্টোবর (২০২৬) মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে হাজারীবাগের শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন মেন্ডী ডেন্টাল রোডে হঠাৎ করে একের পর এক মোট ২৩টি মোটরসাইকেলের কনভয় প্রবেশ করে। মোটরসাইকেল আরোহী প্রতিটি সন্ত্রাসীর মাথায় ছিল হেলমেট এবং মুখে কাপড়ের মাস্ক। পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ঘেরাও করে ফেলে তারা সরাসরি কুরিয়ার সার্ভিস ভবনে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে।
হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মূল্যবান মালামাল ও গচ্ছিত অর্থ লুটপাট করে। প্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে তারা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পিটিয়ে ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত চতুরতার সাথে মেইন সার্ভার রুমে ঢুকে ভিডিও ধারণকারী ডিভাইসটি খুলে নিয়ে চম্পট দেয়।
অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এই সন্ত্রাসী হামলার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৮ মিনিট। তাণ্ডব শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবার একইভাবে ২৩টি মোটরসাইকেলে চড়ে পুরো দলটি দ্রুত এলাকা ছেড়ে কেটে পড়ে। জনবহুল একটি এলাকায় সন্ধ্যাবেলায় এভাবে দলবদ্ধ বাইক বাহিনীর প্রকাশ্য হামলায় সমগ্র হাজারীবাগ এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে।
এদিকে সিসিটিভি ডিভিআর নিয়ে গেলেও আশেপাশের অন্যান্য দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে প্রকাশ্য সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ধর্ষ ঘটনা রাজধানীজুড়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকেই নতুন করে স্পষ্ট করে তুলছে।







