রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে নাশকতামূলক অভিযান এবং গোপন হামলা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ)-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া পশ্চিমাদের কাবু করতে মস্কো এখন সরাসরি ন্যাটো ভূখণ্ডে ধ্বংসাত্মক কৌশল বেছে নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘জিআরইউ’ (GRU)-এর সন্দেহভাজন সদস্যরা জার্মানির লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী তিনটি ড্রোন পাঠিয়ে নাশকতার চেষ্টা চালায়। ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা পরিবহনে ব্যবহৃত কার্গো বিমানগুলো ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। যদিও হামলাটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে জার্মান কর্মকর্তারা মনে করছেন—এই হামলায় প্রাণহানি ঘটলে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ঐতিহাসিক ‘আর্টিকেল ৫’ (Article 5) সক্রিয় করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, যার অর্থ ন্যাটোর ওপর হামলাকে সরাসরি পুরো সামরিক জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু জার্মানিতেই নয়—সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে ড্রোন তৈরির কারখানা, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক-সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর স্থাপনা এবং পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজে বেশ কয়েকটি রহস্যজনক হামলার ঘটনার পেছনেও জিআরইউর বিশেষ ড্রোন ও স্পেশাল ফোর্স শাখার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পেছনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার অকাট্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে যৌথ পশ্চিমা গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মস্কোকে এমন বিপজ্জনক উত্তেজনা না বাড়াতে কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রেমলিন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পশ্চিমের সাজানো বলে অস্বীকার করলেও রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক প্রতিনিধি অনানুষ্ঠানিকভাবে জার্মান কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন—লাইপজিগ বিমানবন্দরই তাদের শেষ লক্ষ্যবস্তু হবে না।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বশক্তির এই স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক চরম বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ন্যাটো ভূখণ্ডে রাশিয়ার এই গোপন নাশকতা ও ড্রোন হামলা যদি বড় ধরনের রক্তপাত ঘটায়, তবে এটি রাশিয়া ও ন্যাটো সামরিক জোটের মধ্যে সরাসরি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়ে দিতে পারে।
