রাজধানীর নিউমার্কেটের ঐতিহ্যবাহী গ্লোব শপিং সেন্টারে একটি দোকানে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং দখলের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী প্রকাশ্যে এই তাণ্ডব চালিয়েছেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, তাঁর ছেলে এবং মার্কেটের ম্যানেজারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে গ্লোব শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলার ২৮ নম্বর দোকান ‘আছিল ভেলর’-এ এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি সূত্রে জানা যায়, দোকান দখলের এই মিশনে নেতৃত্ব দেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম, জামাল আহমেদ জেনিন ও সাইফ হাসান। এ ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, পারভেজ মোশাররফ, অপু মৃধা এবং কর্মী মোস্তাক আহমেদ ও নাইম আহমেদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আকস্মিক ওই দোকানে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। দোকানের ভেতরে থাকা ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলাম ও তাঁর ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এমনকি পরিস্থিতি শান্ত করতে মার্কেটের ম্যানেজার জুয়েল রানা এগিয়ে এলে তাঁকেও কিল-ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় দোকানের দামি মালামাল, টেলিভিশন, কম্পিউটার ও নগদ টাকাসহ মানিব্যাগ লুট করে বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, বৈধ জমির মালিকের কাছ থেকে রানিং অক্টোবর মাস থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই হারুন নামের এক ইতালি প্রবাসী বহিরাগত নিজেকে দোকান মালিক দাবি করে এবং ঢাকা কলেজের ছাত্রদল নেতা মাজেদ ও জামালের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায়। তাঁকে জবাই করার হুমকি দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তাঁর অন্তত দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সাময়িকভাবে দোকানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
গ্লোব শপিং সেন্টারের ম্যানেজার জুয়েল রানা বলেন, হারুন নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে নিজেকে মালিক দাবি করে ছাত্রদলের ক্যাডারদের নিয়ে এই দখল ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ রক্ষায় তারা এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে মূলত দুই পক্ষের মধ্যে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে আইনি মামলা চলমান রয়েছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।







