কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উখিয়ায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ধরা পড়েছেন স্থানীয় যুবদলের এক বিতর্কিত নেতা। ৫০ হাজার পিস প্রাণঘাতী ইয়াবাসহ পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের ১১৫ নম্বর সদস্য ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিয়ক বশর বা ‘সিসি বশর’কে (৩৫) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে বসানো এক বিশেষ তল্লাশি চৌকিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ছৈয়দুল বশর পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আঞ্জুমানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস ছবুরের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত।
উখিয়া থানা ও বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদে খবর আসে যে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিক থেকে একটি অটোরিকশায় মাদকের বড় চালান নিয়ে একদল কারবারি উখিয়ার দিকে আসছে। সংবাদের সত্যতা পেয়ে জোড়া ব্রিজের পশ্চিমে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দিলে চালকসহ তিনজন লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে বশরকে ধরে ফেললেও চক্রের অপর দুই সদস্য চতুরতার সাথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে আটক বশরের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে ওই অটোরিকশার চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা একটি সাদা বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাটি খুলে তার ভেতর পাঁচটি কার্টনে সুবিন্যস্ত অবস্থায় রক্ষিত মোট ৫০ হাজার পিস মিয়ানমারের ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশের দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাদক কারবারের চক্র গড়ে তোলা এই ‘সিসি বশর’-এর বিরুদ্ধে উখিয়া থানাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পূর্বের অন্তত পাঁচটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বারবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার শীর্ষ মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন।
বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া ও উখিয়া থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ধরা পড়া যুবদল নেতার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের পাশাপাশি পলাতক অপর দুই মাদক কারবারিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
