ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের অন্যায়-অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে অন্যের অন্যায়ে সরব হওয়াকে মারাত্মক নৈতিক অপরাধ ও দ্বিগুণ ক্ষতিকর বলে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক ড. আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ। সম্প্রতি টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া দেশব্যাপী তুমুল আলোচনার মধ্যে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) দেওয়া ওই পোস্টে ড. সাইফুল্লাহ স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীর প্রতি স্নেহ, শাসন ও যত্নের একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নৈতিকতার মানদণ্ড আরও অনেক বেশি কঠোর ও স্বচ্ছ হওয়া উচিত। ‘পিতার মতো’ কিংবা ‘বড় ভাইয়ের মতো’—এমন কোনো পরিচয়ের দোহাই দিয়ে কখনোই শিশুদের ওপর সীমালঙ্ঘন ও নির্যাতনের বৈধতা দেওয়া যায় না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যিনি শাসন ও স্নেহের ন্যূনতম সীমা বোঝেন না, শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তোলা উচিত। মাদ্রাসায় শিশু নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধ সামনে এলে কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যায় আড়াল করার মানসিকতা অপরাধের বিচারকে কেবল বাধাইগ্রস্ত করে না, বরং পুরো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম ধূলিসাৎ করে দেয়।
নিজের ভুল বা অপরাধ ঢেকে রেখে অন্যদের হেদায়েত দেওয়ার সংস্কৃতিকে আলেম সমাজের জন্য লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “নিজেদের অন্যায় আড়াল করব, আর অন্যের অন্যায়ে সরব হব—এ কেমন নৈতিকতা? কোদালকে কোদাল বলতে না পারলে আমরা নিজেরাই শুধরাতে পারিনি, বাকিদের ওয়াজ করব কোন যোগ্যতায়?” বিচার ও ইনসাফের মানদণ্ড কোনো ব্যক্তি, পদ কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে বদলে যেতে পারে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
সব কথার শেষ কথা হিসেবে ড. সাইফুল্লাহ সন্তানের সুরক্ষায় আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, “নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই—এটাই শেষ কথা। কে কী ভাবল আর বলল, তাতে গুল্লি মারেন।” টঙ্গীর ঘটনার পর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজকে প্রকাশ্যে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান সচেতন মহল।







