রাঙামাটির সাজেকে পর্যটকদের জিম্মি করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলার তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সভাপতি ও বিশিষ্ট অ্যাক্টিভিস্ট ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক ভিডিও বার্তায় তিনি পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বর্বরোচিত হামলাকারীদের সরাসরি ক্রসফায়ার ও ব্রাশফায়ারের মাধ্যমে নির্মূল করার জোরালো দাবি জানান।
ভিডিও বার্তায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এই পাহাড়ি নেতা বলেন, সাজেকে যেসব সন্ত্রাসী বাহিনী দিনের পর দিন আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, তাদের বন্দি করে জেলখানায় ডাল-ভাত খাওয়ানোর কোনো যুক্তি নেই। জনগণের কষ্টের করের টাকা নষ্ট না করে তাদের ব্রাশফায়ার বা ক্রসফায়ারের মাধ্যমে চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেওয়া উচিত, যাতে তারা আর কখনো সাধারণ মানুষের রুটিরুজি ও নিরাপত্তা নিয়ে খেলার সাহস না পায়।
সেনাবাহিনীর হাত-পা বেঁধে রেখে পাহাড়ি সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে থোয়াই চিং মং চাক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে যেন পাহাড়ের মাটিতে একটিও অবৈধ অস্ত্র না থাকে। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে ‘ফুল পাওয়ার’ বা পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে মাত্র সাত দিনের মধ্যে পাহাড়কে সন্ত্রাস ও অস্ত্রশূন্য করার আলটিমেটাম দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাহাড়কে একটি বিশেষ মহলের সুদূরপ্রসারী চক্রান্তে ‘জুম্মল্যান্ড’ বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন এই অ্যাক্টিভিস্ট। তিনি অভিযোগ করেন, তথাকথিত সন্তু লারমা, প্রসিত বিকাশ খীসা, ইউপিডিএফ, জেএসএস ও দেবাশীষ রায়ের মতো নেতারা নিজেদের আখের গোছাতে এবং বিদেশি বা সেভেন সিস্টার্সের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সচেতনভাবেই পাহাড়কে প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল করে রাখছেন।
নিজেকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে পরিচয় দিতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি চাকমা, মারমা, কিয়াং, খুমি, বম, লুসাইসহ নিজস্ব জাতিগত ও স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান। জাতিসংঘ বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের প্রোপাগান্ডা ও ভুয়া দাতার এজেন্ডায় কান না দিয়ে দেশের মূলধারার সাথে থেকে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ সাত-আট মাস ধরে কোনো আলোচনা বা অধিবেশন না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন থোয়াই চিং মং চাক। দেশের বাকি ৬১ জেলার সংসদ সদস্যদেরও পাহাড়ি এলাকার এই জাতীয় সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার দাবি জানান তিনি।
সবশেষে পাহাড়ি ও বাঙালি নির্বিশেষে সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে বিভাজনের রাজনীতি ছেড়ে এক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান এই নেতা। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পাহাড় ও বাংলাদেশ আমাদের সকলের; কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি বা বিদেশি দালালদের দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।







