মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে এবার জিন সম্পাদনা ও ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ সক্ষমতাসম্পন্ন ‘সুপার ডগ’ তৈরির এক যুগান্তকারী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ শুরু করেছে টেক্সাসভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ারহাউন্ড’ (Warhound)। ভবিষ্যতের এই সামরিক প্রজেক্টের সূচনাতেই সিকোইয়া ক্যাপিটাল, এআরকে ইনভেস্ট এবং মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-সমর্থিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘ইন-কিউ-টেল’-এর কাছ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ পেয়েছে কোম্পানিটি। যার মাধ্যমে ওয়ারহাউন্ডের বাজার মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ১.২ বিলিয়ন ডলারে।
এই উদ্যোগটির মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজের জন্য ব্যবহৃত কুকুর আমদানিতে ইউরোপের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া নির্ভরতা সম্পূর্ণভাবে কমিয়ে আনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীতে বর্তমানে নিয়োজিত কর্মক্ষম কুকুরগুলোর ৮০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করা হয় ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে। কিন্তু জেনেটিক স্বাস্থ্যগত জটিলতা এবং কর্মদক্ষতায় নানাবিধ ঘাটতির কারণে প্রশিক্ষণ শুরু করা কুকুরের অর্ধেকেরও কম শেষ পর্যন্ত সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পারে। এই ঘাটতি মিটিয়ে মার্কিন ডিফেন্স সেক্টরকে নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করতেই ওয়ারহাউন্ড কাজ শুরু করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়ারহাউন্ড বিশ্বের সবচেয়ে সেরা কর্মদক্ষতাসম্পন্ন বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া, জার্মান শেফার্ড এবং ল্যাব্রাডর জাতের কুকুরগুলোকে ক্লোনিং করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ক্লোনিং প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে ‘কলোসাল বায়োসায়েন্সেস’-এর বিশ্বখ্যাত সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ভিয়াজেন’ (ViaGen)। তবে কেবল অবিকল ক্লোনিংয়েই থেমে থাকবে না তারা; পাশাপাশি জীন সম্পাদনা (Gene Editing) প্রযুক্তির মাধ্যমে হিপ ডিসপ্লাসিয়া বা নিতম্বের মারাত্মক জয়েন্ট সমস্যা ও নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকিসৃষ্টিকারী জেনেটিক ত্রুটিগুলো শরীর থেকে চিরতরে দূর করা হবে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো, ভবিষ্যতে এসব কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ও শিকারি দক্ষতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে সরাসরি বুনো নেকড়ের শরীর থেকে ঘ্রাণশক্তি সম্পর্কিত শক্তিশালী জিন কুকুরের ডিএনএ-তে স্থানান্তরের সম্ভাবনা বিবেচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে গবেষণাগারটি। অর্থাৎ জীন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় একেকটি কুকুর রূপ নেবে অতিমানবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সামরিক সদস্যে।
সামরিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে যুদ্ধক্ষেত্রের এই কুকুরগুলোর শরীরে কৃত্রিম প্রযুক্তির প্রয়োগ না করে বাহ্যিক উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করবে বিখ্যাত মার্কিন ডিফেন্স টেক কোম্পানি ‘অ্যান্ডুরিল’ (Anduril)। তারা কুকুরগুলোর জন্য বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক বুলেটপ্রুফ বর্ম এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সেন্সরযুক্ত সিসিটিভি ভেস্ট সরবরাহ করবে। যার মাধ্যমে যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে মার্কিন কমান্ডাররা। কোম্পানির ভাষায় এই প্রযুক্তির অবস্থান হবে “কুকুরের শরীরে, কুকুরের রক্তের ভেতরে নয়”।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই যুগান্তকারী প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ক্লোনিং ও জীন পরিমার্জিত প্রথম উন্নত জাতের কুকুরছানা জন্ম নেবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। এরপর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ২০২৯ সালের দিকে এদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ যুদ্ধক্ষেত্রে ও বিশেষ মিশনে মোতায়েন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়ারহাউন্ড।







