চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণ করে নয়, বরং সংবিধান লঙ্ঘনের মধ্য দিয়েই সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তৈরি করা সাংবিধানিক প্রতারণার ভিত্তিতে এই সরকার গঠিত হয়নি।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেওয়া এমন অনেক বুদ্ধিজীবী সামনে এসেছেন, যাঁদের আগে তেমন পরিচিতি ছিল না। তাঁরা মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরছেন। প্রথমত, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গণভোটের ভাষা এতটাই কঠিন যে সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারে না।
তাঁর মতে, এই দুটি যুক্তির আড়ালেই প্রতারণা লুকিয়ে রয়েছে। সরকারি দলের এই রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, যুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা বিপ্লব—কোনোটিই সংবিধানের ধারা-উপধারা মেনে সংঘটিত হয় না। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও সংবিধান লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার সম্পূর্ণভাবে গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে পুরো বিতর্ককে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের বৈধতাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ফুয়াদের দাবি, বিএনপি বুঝে কিংবা না বুঝে যে দ্বৈত অবস্থান গ্রহণ করছে, তাতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, শপথ গ্রহণ এবং সরকার গঠনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অথচ বিএনপি নিজেরাই এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে রাজি নয়।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে গণঅভ্যুত্থানের যেসব বিষয়কে ন্যায্য বলে মনে করছে, বিএনপি কেবল সেগুলোকেই বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান শেষ পর্যন্ত বিএনপির নিজেদের শাসনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
