রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ওয়ার্ড বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) গভীর রাতে রায়েরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মাসুম খান রাজেশ। তিনি মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্বরত আছেন। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কর্তৃক প্রণীত রাজধানীর শীর্ষ চাঁদাবাজদের নতুন তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে ডিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপির গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানান, স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ার পর এই অভিযান চালানো হয়। মাসুম খান রাজেশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাঁকে রিমান্ডে এনে তাঁর চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে, এই বিতর্কিত বিএনপি নেতা রাজেশের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব খাটাতে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করে আসছিলেন।
উল্লেখযোগ্য যে, সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ও বিএনপির হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা। অন্যদিকে, ববি হাজ্জাজ এনডিএম-এর প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ঘরানার প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের ছবি এবং পরিচয়ের নাম ভাঙিয়ে রাজেশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। তবে অপরাধীদের ক্ষেত্রে যে সরকারের শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি বহাল রয়েছে, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে প্রশাসন সেই বার্তা স্পষ্ট করল।
