ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সুযোগ নিয়ে পুরনো উগ্র ইসলামবিদ্বেষী ও শাহবাগী চক্র নতুন আঙ্গিকে মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নেপথ্যে চিহ্নিত কিছু গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালের ছত্রচ্ছায়ায় এই চক্রটি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি সমালোচকদের।
এই বিতর্কিত বলয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক একাত্তর টিভির কর্মী এবং কুখ্যাত ব্লগার আরিফ রহমান। অতীতে বাংলা ব্লগে নিজের স্বনাম এবং বিভিন্ন বেনামি ফেক আইডি ব্যবহার করে সুকৌশলে ইসলাম ধর্ম ও ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুযুক্তি ও প্রোপাগান্ডা প্রচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেসময়ের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অনেকেই তাঁর এই ভূমিকার কথা ভালোভাবে স্মরণ করেন।
বাম ছাত্ররাজনীতির সুবাদে শাহবাগের উগ্র মব এবং ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে সক্রিয় ছিলেন আরিফ রহমান। সেসময়ে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান আইকন শেখ মুজিবুর রহমানের গুণকীর্তন ও স্তুতিমূলক লেখালেখির পাশাপাশি ফ্যাসিস্টদের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রকাশ্য রাজপথেও সরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে তাঁকে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের পটপরিবর্তনের ঠিক আগমুহূর্তে রাতারাতি রাজনৈতিক অবস্থান বা ভোল পাল্টে ফেলেন এই ধুরন্ধর ব্যক্তি। লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কট্টর অনুসারী হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরবর্তীতে স্বার্থের টানে গুরুজনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। পূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চরম সমালোচক হলেও বর্তমানে নব্য রাজনৈতিক সমীকরণে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলের তেলাপোচা তোষামোদিতে ব্যস্ত রয়েছেন।
একাধিক মহলের অভিযোগ, অতীতে স্বৈরাচারের দোসর ও ইসলামবিদ্বেষী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই সুবিধাবাদী চরিত্রগুলো বর্তমান নতুন বাংলাদেশে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ফের রূপ পাল্টে সক্রিয় হয়েছে। সাধারণ রাজনৈতিক সচেতন মহল ও বিপ্লবী জনতা এই ধরনের চাটুকার ও ইউটার্নকারীদের বিষয়ে চরম সতর্ক থাকার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।







