গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন একসময় ছাত্রশিবিরের শপথবদ্ধ সাথী ছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক রেজা।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
তারেক রেজা তাঁর পোস্টে লেখেন, রাশেদ খাঁন অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রশিবিরের শপথবদ্ধ সাথী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, ছাত্রশিবির থেকে তাঁকে অন্য প্রার্থীর পক্ষে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অমান্য করে তিনি সংগঠন ছেড়ে চলে যান।
এনসিপি নেতা আরও মন্তব্য করেন, অতীতে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পর যাঁরা পরবর্তীতে ভোল পাল্টে ফেলেন, তাঁদের অনেকের মধ্যেই অতি বিপ্লবী বা ‘মোর ক্যাথলিক দ্যান দ্য পোপ’ সিন্দ্রোম কাজ করে—যা নতুন কিছু নয়।
বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্মৃতিচারণা করে তারেক রেজা পোস্টে উল্লেখ করেন, যেদিন ভোরে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যার খবর পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে, সেদিন সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা রাশেদ খাঁন ও নুরুল হক নুরকে ফোন করে তাৎক্ষণিক কর্মসূচি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
নুরুল হক নুর বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভেবেচিন্তে ও খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিলেও, রাশেদ খাঁন শুরুতেই তীব্র আপত্তি জানান। রাশেদের আশঙ্কা ছিল, নিহত আবরার ফাহাদ শিবির কর্মী হতে পারেন এবং তাঁর জন্য কর্মসূচি পালন করলে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ক্ষতি হতে পারে—যা মূলত তাঁর শিবির পরিচয় লুকানোর চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
তারেক রেজা আরও লেখেন, রাশেদ খাঁনের সেই আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করেই যখন শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তখন ক্ষিপ্ত হয়ে রাশেদ সংগঠনের এক নেতাকে ফোন করে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, “কথা না শুনলে তোমাদের ছাত্র অধিকার পরিষদ করার কোনো প্রয়োজন নেই, কাল থেকে আমাদের সঙ্গে আসবা না।”
তবে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং জনস্রোত দেখে সেই রাশেদ খাঁনই বাধ্য হয়ে পরবর্তীতে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক রেজা।







