মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মৃত মানিক পশারীর আপন বোন হেনা পশারী আল্লামা সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে সম্বোধন করে জানিয়েছেন, তাঁর ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়েছিলেন, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা কিছুই জানেন না।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর পৈতৃক বাড়িতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপাচারকালে বোন হেনা পশারী এ কথা বলেন।
বড় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, “তখন আমি খুলনা শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। ভাই কী কারণে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী হয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা কখনও ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি বা জানতেও চাইনি। তিনি (দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী) তো একজন আল্লাহর ওলি ছিলেন। বড় ভাই কিসের লোভে বা কেন কী করেছে, তা ভাই আর আল্লাহই ভালো জানেন। এ বিষয়ে আমাদের আর কিছু না জিজ্ঞেস করাই ভালো।”
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় তাঁরা বাড়িঘরের আশপাশেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মানিক পশারীর ছোট ভাই চান মিয়া পশারী এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, সম্পূর্ণ টাকার বিনিময়ে প্রলোভনে পড়ে তাঁর বড় ভাই আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ওই মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিও সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রথম প্রকাশ করেন আল্লামা সাঈদীর সুযোগ্য সন্তান ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। শুধু তাই নয়, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, মূলত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবেই পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মানিককে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।







