বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সারওয়ার ফরিদ গত ২৫ অক্টোবর দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। ঠিক একই দিনে সংস্থাটির চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন টিম চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছে।
গোয়েন্দা প্রধান ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুগপৎ এই দ্বিমুখী বিদেশ সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৭ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ‘CZ5016’ ফ্লাইটযোগে এনএসআই-এর চার সদস্যের প্রতিনিধিদলটি গুয়াংজুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অন্যদিকে, ওই একই দিন বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার ‘AI2228’ ফ্লাইটযোগে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন এনএসআই মহাপরিচালক। সূত্র জানিয়েছে, ডিজি মহোদয়ের এই সফরে তাঁর সঙ্গে অন্য একজন ব্যক্তিও সঙ্গী হয়েছেন, তবে তাঁর পরিচয় বা পদমর্যাদা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
চীন সফরকারী চার সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—এনএসআই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মাহিন চৌধুরী বিপু, সহকারী প্রোগ্রামার জাহিদ হাসান জয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত এই সফরে তাঁদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিদর্শন এবং একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত কর্মশালায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ঠিক কোন ধরনের সংবেদনশীল প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম পরিদর্শনের জন্য এই সফর এবং কর্মশালাটি কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর পেছনে বড় ধরনের কোনো প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরকারি ক্রয় বা দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত চুক্তির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
অন্যদিকে, এনএসআই মহাপরিচালকের দিল্লি সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, উচ্চপর্যায়ের কোনো বৈঠক বা গোপন কর্মসূচি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক কাউন্টার টেরোরিজম বা সন্ত্রাসবাদবিরোধী সেমিনার, যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
একই দিনে দেশের প্রধান গোয়েন্দা প্রধানের ভারত সফর এবং কারিগরি দলের চীন সফরকে ঘিরে নানা মহলে নানামুখী গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে এই দুই ভিন্নমুখী সফরের মধ্যে সরাসরি কোনো কৌশলগত যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত স্পর্শকাতর এসব রাষ্ট্রীয় ও ভূ-কৌশলগত বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা বক্তব্য দেওয়া হয় না।







