মেট্রোরেলে ভ্রমণকালে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় বসতে চেয়েও সহযাত্রীদের সহানুভূতি না পেয়ে স্ট্রোক করে এক প্রবীণ শিক্ষকের করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আশপাশের মানুষের মানবিক আচরণ ও মূল্যবোধ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর সন্তান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) দুপুরে শাহবাগ থেকে উত্তরা যাওয়ার পথে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে মেট্রোরেলের ভেতরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ড. মুহা. নজীবুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে এনসিপি নেতা নাকিবুর রহমান তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি প্রকাশ করেন, অসুস্থ বোধ করায় তাঁর বাবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আশপাশের যাত্রীদের কাছে একটু বসার জায়গা চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে উপস্থিত কেউ তাঁকে বসতে স্থান করে দেননি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ড. নজীবুর রহমান স্ট্রোক করে চলন্ত মেট্রোরেলের মেঝেতে গড়িয়ে পড়েন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। একই কোচে যাত্রা করা তাঁর এক চিকিৎসক সহকর্মী এগিয়ে এসে প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে উত্তরা উত্তর স্টেশনে নেমে ‘৯৯৯’-এ ফোন দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাকিবুর রহমান ক্ষোভ বা অভিমান না রেখে সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি আকুল আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, “চলতে-ফিরতে বয়স্ক বা প্রবীণ নাগরিকদের দেখলে তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। আপনি আজ যাকে উপেক্ষা করলেন, তিনি হয়তো আপনার পিতা নন, তবে অন্য কারও পরম শ্রদ্ধেয় বাবা।”
ঘটনার সময় নিহতের স্ত্রী ও ছোট ছেলে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। আগামী ৩১ অক্টোবরের আগে দেশে ফেরার টিকিট না পাওয়ায় শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতেও পারেননি তাঁরা।
নিহত শিক্ষকের স্থায়ী ঠিকানা বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা সেক্টর ৫-এর বাসিন্দা ড. মুহা. নজীবুর রহমানের জানাজা শেষে তাঁকে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।







