রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক ভয়াবহ নকল ওষুধ সরবরাহ চক্রের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। যেখানে আসল ওষুধ হিসেবে ফার্মেসিগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছিল ভয়াবহ ভেজাল ও নকল ড্রাগ, তা-ও অবিশ্বাস্য কম মূল্যে।
অভিযানে দেখা যায়, যে ওষুধের বাজারমূল্য প্রায় ১,৩০০ টাকা, অসাধু এই চক্রটি তা ফার্মেসিগুলোতে মাত্র ১১০ টাকায় সাপ্লাই দিচ্ছিল। অর্থাৎ সাধারণ ক্রেতারা আসল মনে করে সর্বোচ্চ দামে যে ওষুধ সেবন করছেন, তার ভেতরে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ নকল উপাদান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে প্রকাশ পাওয়া এই প্রতারক চক্রটির মূল নেপথ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক ও তাঁর কাজিনের জড়িত থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকারের প্রকাশ করা অভিযানে শুরুতেই সানাউল্লাহকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদ ও চেকিং শুরু হওয়ার পরপরই তিনি কৌশলে একপাশ দিয়ে বেরিয়ে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ‘সফলতা’ উদযাপনের বেশ কিছু ছবি সানাউল্লাহর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ভেসে ওঠে, যেখানে সানাউল্লাহ সেই ওষুধ ব্যবসাকে নিজের ‘টিম’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
এর আগেও গণঅধিকার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। অতি সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, রাজধানীর একটি রাষ্ট্রীয় ভবন দখলের চেষ্টার পেছনে জড়িত ছিল ‘কালান্তর’ নামের একটি বিতর্কিত পাঠচক্র।
জানা গেছে, ওই পাঠচক্রের সাথে ডাকসুর সাবেক ভিপি পদপ্রার্থী শামীমকে যুক্ত করেছিলেন এই সানাউল্লাহ নিজেই। শামীমের বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এবং সানাউল্লাহর বন্ধুত্বের সূত্র ধরে তাঁকে সামনে এনেছিল চক্রটি। অভিযোগ রয়েছে, শামীমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সেই সরকারি ভবন দখলের অপচেষ্টাকে ‘বৈধতা’ বা রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার পাঁয়তারা করা হয়েছিল।
একটি রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এমন আশঙ্কাজনক প্রতারণা, নকল ওষুধের মতো জীবনঘাতী সিন্ডিকেট এবং সম্পত্তি দখলের অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।







