ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোছা. শিরীন আক্তার (৩৫) ও তার স্বামী মো. আলমগীর (৪২) সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী শিরীন আক্তার জানান, ২০১২ ও ২০১৩ সালে দীর্ঘ এক থেকে দেড় বছর ধরে মির্জা ফয়সাল আমিন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় ধর্ষণের ভিডিও রেকর্ড করে রাখা হয় এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনার কারণে তার সামাজিক ও পারিবারিক জীবন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিরীন আক্তার আরও অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে পৌর নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে একটি দফারফা বা মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু মির্জা ফয়সাল আমিনের অব্যাহত হুমকির কারণে তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মির্জা ফয়সাল আমিনের মন্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি এবং কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, মির্জা ফয়সাল আমিন বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল ২৯ অক্টোবর এই শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
