বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে অনুদান সহায়তা হিসেবে ৩৫ মিটার শ্রেণির একটি জাপানি নির্মিত টহল জাহাজ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
রাজধানীর ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অনুদান সহায়তা সংক্রান্ত নথিপত্র স্বাক্ষরিত ও বিনিময় হয়। বাংলাদেশের পক্ষে এবং জাপানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে অংশ নেন।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, নতুন এই জাহাজটি সামুদ্রিক অপরাধ দমন, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় নিয়মিত নজরদারি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে কোস্ট গার্ডের অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে জাপানের ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ (OSA) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি বিশেষ টহল বোট হস্তান্তর করা হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে দেশেই ৩৮ মিটার শ্রেণির পাঁচটি নদীপথের টহল জাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ৩৫ মিটার শ্রেণির নতুন জাহাজটি ওই দেশীয় উদ্যোগগুলোর বাইরে আলাদা একটি বিশেষ অনুদান প্রকল্পের অংশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সহযোগিতার নামে জাপান থেকে এ ধরনের যে সহায়তা দেওয়া হয় তা মূলত প্রাথমিক বা বেসিক পর্যায়ের। যেহেতু এ ধরনের টহল বোট বর্তমানে দেশেই তৈরি করার সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, তাই সাধারণ সামরিক সরঞ্জাম বা বেসিক বোট নেওয়ার পরিবর্তে জাপানের মতো প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশের সাথে যৌথ উদ্যোগে আধুনিক কমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট বা কৌশলগত যোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরিতে মনোযোগী হওয়া দেশের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।
