মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মানিক পশারীর দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর লাশ গ্রহণ, গার্ড অব অনার প্রদান, দাফনে বাধা, প্রথম কবর খুঁড়ে আবার ভরাট এবং শেষ পর্যন্ত রাতের আঁধারে পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন করার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা চলছে।
ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিলেন, কেন মানিক পশারীর লাশ প্রথমে তাঁর বাড়িতে না নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও পরে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাটির পেছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁদের আপত্তি ছিল মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে।
গত শনিবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর লাশ পিরোজপুরে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপি ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের নেতাদের অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দাফনে বাধা দিয়েছেন। ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাহবুবুল আলম নাঈমের বিরুদ্ধেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া পাড়েরহাট বাজারে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে জামায়াত নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা জানাজা বা দাফনে বাধা দেননি; বরং মানিক পশারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এবং দাফন ঘিরে জনরোষের নেপথ্য পরিস্থিতি জানতে বুধবার ভোরে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে সরেজমিন অনুসন্ধান চালানো হয়। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্য, স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। সংবেদনশীলতার কারণে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দিয়েছেন।
সাঈদীর মামলায় সাক্ষ্য, পরে আত্মগোপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
২০০৯ সালের ১১ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন মানিক পশারী। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়। সেখানে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক বুধবার আমার দেশকে বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে নির্বাচিত কমান্ডার থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় মানিক পশারীর নাম ছিল না। ২০১৭ সালে তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করার আট বছর পর তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
শহীদুল হক বলেন, ২০১৭ সালের তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছে। কার্যক্রম শেষে নতুন গেজেট প্রকাশিত হলে তা চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ বাদ পড়ে থাকলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কেউ শনাক্ত হলে তাঁকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এদিকে আমার দেশ-এর হাতে আসা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১১ সালে দেওয়া জবানবন্দিতে মানিক পশারী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন বলে জানান। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইদুর রহমান আউয়ালের দেওয়া একটি আধাসরকারি চিঠির (ডিও লেটার) মাধ্যমে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনের অভিযোগ, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতিদান হিসেবে তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত যাচাইয়ের ফল জানা প্রয়োজন।
গার্ড অব অনার নিয়ে জনরোষ
গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে স্থানীয়দের একাংশ প্রতিবাদ জানান। তাঁদের আপত্তি ছিল, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মানিকের মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টার দিকে মৃত্যুর পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান। এরপর গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে লাশ রাখা হয়। তাঁর অভিযোগ, এ সময় লাশ সংরক্ষণের জন্য বরফের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং স্থানীয় প্রশাসন দাফনের দায়িত্ব নেয়নি।
পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে পরে প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশি নিরাপত্তায় লাশ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নিজ গ্রামে দাফনেও বাধা
পুলিশ লাইনস থেকে লাশ শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে তাঁর বাড়িতে নেওয়া হলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়ে। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মানিক পশারীর সাক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের একাংশের প্রতিবাদের মধ্যে দাফনের জন্য খোঁড়া কবর মাটি ও বাঁশ দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পাড়েরহাট বাজারে মানিক পশারীকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়। পৌর কবরস্থানেও কবর খোঁড়ার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাতের আঁধারে দাফন সম্পন্ন
চিথলিয়া গ্রামের গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে গিয়ে তিনি মানিক পশারীর বোনদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাঁরা এবং স্থানীয় দুই ব্যক্তি মিলে কবর খনন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও প্রসঙ্গে মতিউর রহমান বলেন, ওই সময় নারীদের মাটি সরাতে দেখা যায়। পরে পুলিশ, গ্রামপুলিশ ও প্রশাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে শনিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে নিজ বাড়িতে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাফনের সময় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল সীমিত। নিজ এলাকায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে অসংগতি
ঘটনার সময় খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানান মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তাঁর দাবি, ভাই কখনো তাঁকে মামলার বিষয়ে কিছু জানাননি।
এর আগে স্থানীয় গণমাধ্যমে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি তাঁকে আল্লাহর ওলি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বুধবার আমার দেশ-এর প্রতিনিধির কাছে তিনি আগের বক্তব্য অস্বীকার করেন। তাঁর আগের বক্তব্যের ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মানিক পশারীর ভাগনে আজিজুল জানান, দাফনের জন্য দুপুর দেড়টার দিকে কবর তৈরি করা হয়েছিল। পরে তাঁরা খাবার খেতে গেলে তাঁর বাবা ফোন করে লোকজন আসার কথা জানান। পরিস্থিতির কারণে তাঁরা আর সেখানে যাননি বলে দাবি করেন তিনি।
‘দাফনে বাধা দেয়নি জামায়াত’
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বুধবার আমার দেশকে বলেন, মানিক পশারী ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপরও কীভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হলেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মাসুদ সাঈদীর অভিযোগ, তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের প্রভাবে ডিও লেটারের মাধ্যমে মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং দীর্ঘদিন সরকারি অর্থ গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। তাঁর দাবি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে নাশকতা করতে না পারে, সে জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরাই দাফনের কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহিরুল হক ও সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাকও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের বক্তব্য, মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করে জামায়াতের বিরুদ্ধে দাফনে বাধা দেওয়ার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা বিএনপির
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত উল্লেখ করে বলেন, এর পেছনে বিরোধী দলের, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কোনো অংশের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে লাশটি ইউএনও কার্যালয় ও পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কীভাবে লাশটি উপজেলা সদরে বা ইউএনওর কাছে পৌঁছাল এবং এর পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছেন, তা তদন্ত করে বের করতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, গেজেটভুক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চিথলিয়া গ্রামে থমথমে পরিবেশ
সরেজমিনে চিথলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানিক পশারীর বাড়ি তালাবদ্ধ ও নির্জন। গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান এবং প্রতিবেশী সাফিয়া বেগম ও আরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলতে অনেকে অনীহা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও বাসিন্দাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ঘটনাটি শুধু একটি দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় সীমাবদ্ধ নয়। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তি, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক ক্ষোভ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগ, দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং লাশ পরিবহন ও গার্ড অব অনার প্রদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
দাফনে বাধার অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের কমিটি
মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তদন্তে মঙ্গলবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।







